মেহনতি মানুষের দৈনিক

আজ ,

লক্ষ্মীপুর থেকে প্রকাশিত ।। রেজি: নং : চ- ৬৩৯/১২।।

যখনই আমার বিরুদ্ধচারণ সেখানেই আমাকে বলতে হবে ওয়েলকাম

যখনই আমার বিরুদ্ধচারণ সেখানেই আমাকে বলতে হবে ওয়েলকাম। অনুপ্রেরনায় আমার মেসেঞ্জারে সাবেক একজন জেলা প্রশাসক। স্যারকে শ্রদ্ধা এবং স্যালুট জানাই….কথাগুলো বলেছেন স্বেচ্ছাসেবী আ. রহমান চৌধুরী তুহিন। তাঁর ফেসবুক টাইমলাইন থেকে তা তুলে ধরা হলো।

পৃথিবী বদলে যাচ্ছে, উন্নত হচ্ছে একমাত্র সমস্যার কারণে। যত বেশি সমস্যা মানুষ পৃথিবীতে দেখেছে, ততবেশি মানুষ উন্নত হয়েছে। যদি হেঁটে হেঁটে গন্তব্যে যাওয়াটাকে কেউ সমস্যা না ভাবতো, তবে মানুষ কখনো চাকা আবিষ্কার করতো না, গাড়ি আবিষ্কার হতো না, বিমান কী তা মানুষ কখনো জানতোই না। অন্ধকারটাকে যখনই সমস্যা মনে হয়েছে তখনই ইলেক্ট্রিক লাইটের আবিষ্কার হয়েছে। যদি অন্ধকারটা আপনার আমার কাছে কোনো সমস্যাই না হতো, তবে আজকে ইলেক্ট্রিক লাইট আবিষ্কার হতো না। টিভি, ফ্যান এসি কিছুই আবিষ্কার হত না। সভ্যতা বদলে গেছে, পৃথিবী উন্নত হয়েছে শুধুমাত্র সমস্যার কারণে। আপনিও বদলে যাবেন, সেরাদের সেরা হয়ে যাবেন, উন্নত জীবন পাবেন যদি কিছু এরকম সমস্যা আপনারও থেকে থাকে। তাই যেখানেই প্রবলেম সেখানেই বলুন ওয়েলকাম। কারণ প্রতিটি প্রবলেম আসেই আপনাকে আমাকে হিরো বানাতে।

কঠিন দেখে, ভয়ের কারণে, হেরে যাবার লজ্জায় যখনই সবাই একের পর এক বলেছে “সম্ভব না “; ঠিক সেই জায়গাটিতেই জিনিয়াস ও সাহসীরা চ্যালেঞ্জ নিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে “সম্ভাবনা”। যেটা আপনার কাছে “সম্ভব না”, সেটাই অন্যের কাছে “সম্ভাবনা”।

মানুষের কথায় কান দিবেন না। নেগেটিভ কিছুর প্রতিবাদও করবেন না। উইনস্টন চার্চিল বলেছেন “রাস্তায় ঘেউ ঘেউ করা প্রত্যেকটা কুকুরকেই যদি আপনি ঢিল ছুঁড়েন তবে আপনি সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন না।” মানুষ কখনো কখনো আপনার ভালো কাজেরও প্রশংসা করবেনা। কখনো বা অনেক ভালো কাজের কিছু চমৎকার বদনাম বের করেই ছাড়বে। তবুও আপনি যদি না থামেন, তবে দেখবেন সে থেমে গেছে। রান্না খারাপ হলে বলবে- “কে রান্না করল এগুলো? বাজে, খাওয়া যায়না।” আর রান্না ভাল হলে বলবে – “মজা হয়েছে অনেক, কি মাছ এগুলা?” পৃথিবীতে সব কিছু এমনই। খারাপ হলে দোষটা আপনার, ভালো হলে গুণটা প্রোডাক্টের। লাইফটা আপনার, সফলতা ব্যর্থতা সবই আপনার; তাহলে আপনি পারবেন কি পারবেন না তার ডিসিশান কেন অন্য কেউ দিবে? “তোমাকে দিয়ে হবে না, তুমি পারবেনা”- অন্য কারো এমন কথায় কেন আপনাকে ভেঙ্গে পড়তে হবে? মানুষকে বেশি পাত্তা দিলে আপনি নিজেই লাপাত্তা হয়ে যাবেন। নিজের দিকে মনযোগ দিলে তো মানুষকে এত পাত্তা দেয়ার সময় আপনার থাকারই কথা না।

আমরা সবকিছুই ইমেডিয়েট চাই বলেই হতাশাটাও আমাদের ইমেডিয়েট চলে আসে। আজ স্বপ্ন দেখলেই কাল সেটা পূরণ হয়ে যাবেনা। কামড়ে ধরুন, ঝাপটে ধরুন, আকড়ে ধরুন। আপনি সবক্ষেত্রে সফল হবেন না। সব কাজ আপনাকে ‘আপনি ‘ করেও তুলবেনা। রবিঠাকুর ব্যারিস্টার হতে চেয়েও হতে পারেননি। লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি বিমান আবিষ্কার করতে গিয়েও করতে পারেননি। ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট এপিজে আবুল কালাম পাইলট হতে চেয়েও হতে পারেননি। ইতিহাসে এমন অনেকেই আছেন যারা তাদের অনেক স্বপ্নই পূরণ করতে পারেনি। অথচ তবু তারা এমন কিছু করেছেন যে জন্য মানুষ আজ তাদের মত হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কোনো একটা জায়গায় হেরে যাওয়া মানেই সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়। মনে যদি জেদ থাকে, ভেতরে বারুদের মত স্পীড থাকে, চ্যালেঞ্জ নেয়ার সাহস থাকে; তবে একশটা স্বপ্ন ভেঙে খানখান হলেও, নতুন কোনো স্বপ্ন নিয়ে, নতুন কোনো টার্গেট নিয়ে আপনি ভেঙ্গে যাওয়া একশটা স্বপ্নের চেয়েও এমন একটা বড় স্বপ্ন পূরণ করে ফেলবেন যার কাছে ঐ একশটা স্বপ্ন তুচ্ছ হয়ে যাবে।

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *