মেহনতি মানুষের দৈনিক

আজ ,

লক্ষ্মীপুর থেকে প্রকাশিত ।। রেজি: নং : চ- ৬৩৯/১২।।

বিদ্যুৎ খাত নিয়ে ষড়যন্ত্র: দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে

বিদ্যুৎ খাত নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি উদ্বেগজনক। এটি সামগ্রিকভাবে দেশের শিল্পায়ন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার একটি অপচেষ্টা।

২০২৫ সালের মধ্যে ৩০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

অথচ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা এখনও রয়ে গেছে দুর্বল। বস্তুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা ও বিতরণ ব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে দেশে কোনো সমীক্ষা হয়নি।

দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা ও বিতরণ ব্যবস্থার কলাকৌশল সম্পর্কে সঠিক কোনো ধারণা না থাকায় বিদ্যুতের উৎপাদন ও বিতরণ গ্রাহক-চাহিদার সঙ্গে সাজুয্যপূর্ণ হচ্ছে না; ফলে সরকারের নানামুখী প্রচেষ্টা সত্ত্বেও লোডশেডিং থেকে জাতি মুক্তি পাচ্ছে না।

গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ বিষয়টিই পরিস্ফুট হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দুর্বল সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার কারণে কোথাও নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ দিতে পারছে না পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)।

কখনও আরইবি, আবার কখনও বা পিজিসিবির কারণে লোডশেডিং ও লাইন শাটডাউন করতে হচ্ছে। বস্তুত এ দুই প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালিপনায় ধ্বংসের সম্মুখীন হচ্ছে দেশের অনেক শিল্পকারখানা।

উল্লেখ্য, একদিকে পিজিসিবি সারা দেশে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন নির্মাণ করছে; অপরদিকে আরইবি এসব সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হবিগঞ্জ জেলায় ২৯ দিনে অন্তত ৩৩ ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে। শুধু হবিগঞ্জ নয়, একইভাবে দেশের অন্যান্য স্থানেও শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারছে না আরইবি ও পিজিসিবি।

এ অবস্থায় বহু শিল্পমালিক ও উদ্যোক্তা ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ধারাবাহিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত একজন শিল্পোদ্যোক্তা জানিয়েছেন, তার একটি কারখানায় একবারের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কমপক্ষে ৫২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

এ হিসাবে তার পাঁচটি কারখানায় একবারের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে তিনি কমপক্ষে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। এছাড়া কম্পিউটারাইজ মেশিনারিজগুলো চালু অবস্থায় হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হয়ে বন্ধ হলে সফটওয়্যার সিস্টেম নষ্ট হয়ে যায় এবং এতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। অতীতে যারা ঘাটতির অজুহাত তুলে বিদ্যুৎ বিতরণে নানা কারসাজি করত, তারা নতুন করে এ সেক্টর নিয়ে ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পেতেছে কিনা, তা অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এ ব্যাপারে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *