মেহনতি মানুষের দৈনিক

আজ ,

লক্ষ্মীপুর থেকে প্রকাশিত ।। রেজি: নং : চ- ৬৩৯/১২।।

রামগঞ্জে অবাধে মিষ্টিতে ব্যবহার হচ্ছে হাইড্রোজ

বিশেষ প্রতিনিধি : রামগঞ্জ উপজেলাব্যাপী শত শত অসাধু রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ীগন প্রতিদিন মিষ্টি ও মিষ্টিজাত পন্য তৈরীতে গনহারে বিষাক্ত হাইড্রোজ ব্যবহার করছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে খাদ্যে ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও উৎপাদিত মিষ্টি পন্যের রং অটুট রাখার জন্য দীঘদিন ধরে ব্যবসায়ীগন ওই হাইড্রোজ মেশানোর কাজ অব্যাহত রাখলেও সংশ্লিষ্ট প্রসাশস সৃষ্ট বিষয়ে অদ্যাবধি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে বিষাক্ত হাইড্রোজ মিশ্রিত খাবার দীর্ঘদিন গ্রহণের ফলে ক্রমান্বয়ে মানবদেহের কিডনী বিকল, হাঁপানী, ডায়াবেটিকসসহ ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। এতে করে রামগঞ্জবাসীকে বাঁচানোর স্বার্থে অতিসত্ত্বর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিষাক্ত হাইড্রোজ ব্যবসায়ীসহ মিষ্টি ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন তারা।

অনুসন্ধানে জানাযায়, দেশের টেক্সটাইল মিল মালিকগণ তাদের মিল কারখানায় উৎপাদিত সুতা এবং কাপড়ের রং পোক্ত করনের জন্য ওই হাইড্রোজ ব্যবহার করে থাকে। যা কখনই মানব দেহে ব্যবহারের উপযুক্ত নয়। অথচ গত বেশ কয়েক বছর পূর্বে রামগঞ্জ ও সোনাপুর বাজারের জনা কয়েক মুদি এবং পাইকারী ব্যাবসায়ী এ হাইড্রোজ আমদানী করে। যার ফলশ্রুতিতে অত্র অঞ্চলের মিষ্টি ব্যবসায়ীগন অতি গোপনে চওড়া মূল্যে হাইড্রোজ ক্রয় করে মিষ্টি পন্যে ব্যবহার শুরু করে। বর্তমানে রামগঞ্জ উপজেলা ব্যাপী ২ শতাধিক ব্যবসায়ী প্রতিদিন তাদের উৎপাদিত মিষ্টিতে এই বিষাক্ত হাইড্রোজ ব্যবহার করে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার কয়েকটি মিষ্টি দোকানের কর্মচারীগণ মিষ্টি পণ্যের কালার পোক্ত করণের জন্য হাইড্রোজ ব্যবহারের কথা স্বীকার করে জানান, হাইড্রোজ মেশানোর কাজ অত্যান্ত কঠিন, সবাই তা পারে না। মোঃ বাবর নামের একজন জানিয়েছেন, কয়েকমন মিষ্টির জন্য একডোজ হাইড্রোজই যথেষ্ট। এই ক্যামিকেল এতই বিষাক্ত যে প্রয়োগে সামান্যতম হের ফের হলে তাৎক্ষণিক মানব দেহে রিএ্যাকশন অনিবার্য,এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। এ ছাড়াও মিষ্টি তুল তুলে এবং ফোলানোর জন্য ইস্ট নামের ক্যামিকেল ও ব্যবহার করা হয়। তবে তা হাইড্রোজের মত অত বিষাক্ত নয়। সৃষ্ট বিষয়ে রামগঞ্জ পৌরসভার স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মোঃ আলমগীর কবির জানান, খাদ্যে হাইড্রোজ ব্যবহারের কোন অনুমতি নাই। রামগঞ্জে হাইড্রোজ ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা তিনি জানেন না বলে জানিয়ে বলেন, হাইড্রোজ মেশানো মিষ্টি পরীক্ষার জন্য যে মেশিনপত্র প্রয়োজন তা রামগঞ্জ পৌরসভায় নেই।

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *