মেহনতি মানুষের দৈনিক

আজ ,

লক্ষ্মীপুর থেকে প্রকাশিত ।। রেজি: নং : চ- ৬৩৯/১২।।

চুরি হচ্ছে পাউবো’র দরজা-জানালা

বিশেষ প্রতিনিধি : রায়পুরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, পাউবো’র সম্পদ মানেই সবার। এনিয়ে গত ৩ মাসে দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কার্যালয়ের দু’টি দরজাসহ ৪৪টি কাঠের জানালা, ৪টি কাঠের দরজা, ৪টি লোহার গ্রীল ও ১টি সিলিং ফ্যানসহ লাধিক টাকার মালামাল খুলে নিয়ে গেছে। সরকারি মূল্যবান জিনিস পত্র চুরি হলেও থানায় জিডি ও মামলা করার মতো কেউ নেই।

এ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাসের পর মাস কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকার সুযোগে দুর্বৃত্তরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে। এতে ওই সম্পত্তি বেহাত হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।

গতকাল শহরের পীর বাড়ি সংলগ্ন পাউবো অফিসে গিয়ে লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ অফিসে একজন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী কর্মরত আছেন। তারা মাসের পর মাস অফিসে অনুপস্থিত থাকে। এ সুযোগে রাতের আঁধারে ৪৪টি কাঠের জানালা, ৪টি কাঠের দরজা, ৪টি লোহার গ্রীল ও ১টি সিলিং ফ্যান নিয়ে যায়। মাদকাসক্তরা নেশার টাকা যোগাতে এসব মালামাল লুটে নিয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারনা।

স্থানীয় হুমায়ুন কবির বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কর্মকর্তারা মাসের পর মাস অফিস না করার কারনে একের পর এক চোরের দল অফিসেরর দরজা-জানালা ও গ্রিল নিয়ে যাচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে পাউবো’র সম্পদ মানেই সবার। এছাড়াও পোষ্ট অফিস সড়কের পাউবো’র কর্মচারীরা দুর্বৃত্তদের সাথে আতাত করে আবাসিক ভবন বেআইনিভাবে দখলসহ পুকুরের মাছ, ফসল, বিভিন্ন ফলগুলো লুটপাট করে নিয়ে যাওয়াসহ বনজ গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিরাতে পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে স্থানীয় বখাটে যুবকরা নারী, মদ নিয়ে সারারাত আনন্দ পুর্তিতে মেতে থাকে। ভবনগুলোতে বসবাসকারী বাসিন্দারা পাউবো’র কর্তৃপ ও পুলিশকে জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। একই কথা বললেন এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক।

যোগাযোগ করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রায়পুর শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) ‘ওই অফিসে আমাদের প্রচন্ড লোকবল সংকট। এছাড়াও আমি চাঁদপুর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করার কারনে অধিকাংশ সময় এখানেই থাকতে হয়। দরজা-জানালা খুলে নেয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তবে এ ব্যাপারে থানায় কোন মামলা বা অভিযোগ করা হয়নি’। তিনি আরো বলেন, ‘রায়পুরে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপ-সহকারির কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্তত: ২০টি পদবী রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত আছেন তিনিসহ ৪ জন। অন্যান্য পদবীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ না থাকার কারনে রায়পুরে দায়িত্ব নিয়ে আসতে চায়না’।

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *