মেহনতি মানুষের দৈনিক

আজ ,

লক্ষ্মীপুর থেকে প্রকাশিত ।। রেজি: নং : চ- ৬৩৯/১২।।

রামগঞ্জে মৃৎশিল্প বিলুপ্তির পথে

বিশেষ প্রতিনিধি : আধুনিতকার করালগ্রাসে রামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। ফলে মৃৎশিল্প নিয়ে আঁকড়ে থাকা উপজেলা ব্যাপী শতাধিক কুমার পরিবারের জীবনে দূর্দিন নেমে এসেছে। বাপ-দাদার কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া এই কর্মই কালের আবর্তে যেন মরন ভোজা হয়ে চেপেছে তাদের ঘাড়ে। কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠানোতো দূরের কথা ঠিকমত তিনবেলা খাবার পর্যন্ত জুটছেনা তাদের কপালে। দিন যতই যাচ্ছে ততই যেন অন্ধকার ঘিরে আসছে তাদের চারপাশ।

অথচ একসময় রামগঞ্জে মৃৎশিল্প কারিগরদের এমন দূরাবস্থা ছিলনা। সর্বসময়ে কাজ আর কাজ। মাটির সংগ্রহ, মাটির খামির তৈরি এর পর খাঁচে বসিয়ে ইচ্ছেমত নানান রকম হাড়ি-পাতিল,কলস,বাসন,ব্যাংক,হান্ডি,বোটগা থেকে শুরু করে পরিবারের প্রয়োজনীয় নূরের বাটিটি পর্যন্ত মাটি দিয়ে তৈরি হত। ৮০ দশকে গ্রাম বাংলার বিশেষ করে গ্রেটার নোয়াখালীতে ১৬ আনাই মাটির জিনিসপত্র ব্যবহার হতো। বিয়ে, কুলখানি, কাঙ্গালীভোজ, মসজিদের শিড়নী থেকে শুরু করে সর্বপ্রকার সামাজিক অনুষ্ঠানেও এই মাটির জিনিসপত্রই ব্যবহার হত।

উপজেলার আথাকরা গ্রামের কুমার বাড়ির মায়া রানী পাল (৩৫), দণিা পাল (৬০) পরেষ চন্দ্র পাল (৪০),রত্না রানী পাল (২২), চন্ডিপুরের হারাধন কুমার (৭৫), কামার হাটের মরন চন্দ্র (৬৫), সেফালী পাড়ার গোপাল কুমার (৭০), শ্রীপুরের বর্নালী পাল (২৮) সহ অনেকে জানান, তৎকালীন সময় অত্র নোয়াখালী অঞ্চলের জন্য বড় বাজার ছিল রামগঞ্জের সোনাপুর হাঁট। সে সময় সোনাপুরেই ছিল মাটির জিনিস পত্রের বিশাল কারবার। শুধূ নোয়াখালীই নয় তৎসময়ে ঢাকার নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী, বরিশাল, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম সহ দেশের ৩২টি স্থানের ব্যবসায়ীগন নৌকা ও লঞ্চযোগে সোনাপুর থেকে এই মাটির জিনিসপত্র নিয়ে যেতেন। ৮০ দশকে উপজেলার আথাকরা, দেবনগর, শেপালীপাড়া, শৈরশৈ, চন্ডিপুর, ভাটরা, ইছাপুর, দণি করপাড়া গ্রাম সহ সোনাপুরের কমরদিয়ায় মৃৎশিল্প কারখানা ছিল। এইসব কারখানায় কর্মরত মৃৎ শিল্পীগন এতোই ব্যাস্ত থাকতেন যে আত্নীয়-স্বজনদের সাথে পর্যন্ত কথা বলতে পারতেন না। কিন্তু বিধিমাম ৮০ দশকের শেষে এসে আধুনিকতার করাল থাবায় মৃৎ শিল্পীদের সকল স্বপ্নই যেন উড়ে গেল চোখের পলকে। সেই থেকে রামগঞ্জে মৃৎশিল্প পরিবারদের দূর্দিন শুরু হয়।

অসহার পরিবারে সদস্যগন মনে করেন যে, বর্তমান যুগে মৃৎশিল্পের পুন:জাগরণ কিংবা এ পেশায় তাদের সুদিন ফিরে আর আসবে না। তবুও বাপ-দাদার হাতে শিক্ষা নেওয়া এই শিল্পকেই আকড়ে ধরে মরতে চান তারা।

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *