1. dipu3700@gmail.com : dipu :
  2. johir.upakul@gmail.com : Johirul Islam : Johirul Islam
  3. minto.raipur@gmail.com : Mahbubul Alam : Mahbubul Alam
  4. upakulprotidin@gmail.com : Upakul Protidin : Upakul Protidin
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন

করোনার ‘সুযোগে’ বেপরোয়া সুন্দরবনের হরিণ শিকারীরা

উপকূল প্রতিদিন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : রবিবার, ২১ জুন, ২০২০ | সময়: ১১:৩১ অপরাহ্ণ
  • ১০০ জন দেখেছেন

করোনাভাইরাস মহামারী পরিস্থিতিতে সারা বিশ্ব স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিবহন ও মানুষের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করায় পরিবেশ ও দূষণের হার কমেছে অনেক। লকডাউনের ফলে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনও পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ।

সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় বনের অতদ্র প্রহরী বনরক্ষীরাও কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। এ সুযোগে সুন্দরবনের অভয়ারন্য এলাকায় হরিণ শিকার করতে মেতে উঠেছে অসাধু চোরা শিকারীরা।

সুন্দরবনের হরিণ শিকারের জন্য সব সময় চোরা শিকারীরা তৎপর থাকলেও লকডাউনের পর থেকে আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার্থে বনবিভাগের সদস্যরা সব সময় তৎপর রয়েছে বলে দাবি করেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১৯ মার্চ থেকে সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ করে বন বিভাগ। এ আদেশের পর বনরক্ষীরা কিছুটা ঢিমেতালে তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করে। এই সুযোগে চোরা শিকারীরা তৎপর হয়ে ওঠে হরিণ শিকারে।

লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে ১২ মে পর্যন্ত বনবিভাগ, পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১০০ কেজি হরিণের মাংস জব্দ করা হয়। এর সঙ্গে ১ হাজার ৯‘শত ৫০ ফুট ফাঁদ, কয়েকটি নৌকা ও ট্রলার জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

হরিণ শিকারের অপরাধে ৬ শিকারীকে আটক করা হয়। ৫ মে সর্বশেষ ৩০কেজি হরিণের মাংস ও ৭‘শত ফুট ফাঁদসহ তিনজনকে আটক করে বন বিভাগ। ওই সময় শিকারীদের পেতে রাখা ফাঁদে আটক ২২ টি হরিণ বনে অবমুক্ত করে বনরক্ষীরা। যারা অপরাধ করে ধরা পড়েছেন তাদের পরিসংখ্যান। এর বাইরে চোরা শিকারীরা কী পরিমাণ হরিণ ও হরিণের মাংস চালান করেছে তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই কারো কাছে।

এছাড়া পূর্ব সুন্দরবন বনবিভাগ অভিযান চালিয়ে গত এক বছরে ২৩১ কেজি হরিণের মাংস, ১০টি চামড়া, ৩টি মাথা জব্দ করা হয়। আটক করা হয় ২৫ জন হরিণ শিকারীকে গ্রেফতার করে। এসময় চোর শিকারীদের ব্যবহৃত ১০টি ট্রলার, ২৫টি নৌকা ও ৫ হাজার ফুটের অধিক হরিণ শিকারীর ফাঁদ উদ্ধার করে বনবিভাগ।

এসব ঘটনায় করা মামলার ৬৭ আসামি পলাতক রয়েছেন।

সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাবাসী বলছেন, করোনা পরিস্তিতিতে বনরক্ষীদের টহল কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ায় বনের অভয়ারণ্যে বিচরণ করা মায়াবী চিত্রা হরিণ নিধনে মেতে উঠেছে সংঘবদ্ধ কয়েকটি শিকারী চক্র। এই চক্রের সদস্যরা গোপনে বা ছদ্মবেশে বনের সংরক্ষিত অভয়ারণ্য এলাকায় অনুপ্রবেশ করে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে মাংসবিক্রি করছে। কখনো বা জীবিত হরিণও গোপনে পাচার করে দিচ্ছে। গত এক মাস অন্তত অর্ধশত হরিণ শিকারের ঘটনা ঘটেছে। বনরক্ষীরা যত পরিমাণ হরিণের মাংস উদ্ধার ও শিকারীদের আটক করে তার চেয়ে অনেক বেশিই হরিণ নিধনের ঘটনা ঘটাচ্ছে শিকারীরা অনেকে।

সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের রহিম, আবুল নকিবসহ কয়েকজন বলেন, করোনাভাইরাসের জন্য হয়ত ফরেস্ট ও বনের পাহারাদাররা একটু কম আসে। যার কারণে চোরা শিকারীরা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সুন্দরবনের পর্যটন শিল্পর সঙ্গে জড়িত শহিদুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান বলেন, সুন্দরবনের মূল সৌন্দর্য হরিণ। সেই হরিণ এখন প্রায়ই অবাধে শিকার করছে চোরা শিকারীরা। এভাবে যদি দিনের পর দিন চলতে থাকে তাহলে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে। যত দ্রুত সম্ভব সুন্দরবনের হরিণ শিকার বন্ধ করা প্রয়োজন। হরিণ শিকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

এ ব্যাপারে সুন্দরবন করমজল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, আমরা বন বিভাগের প্রতিটা কর্মী বন্যপ্রাণি ও বন সংরক্ষণের জন্য ২৪ ঘন্টাই দায়িত্ব পালন করি। তারপরও করোনা ও রোজার জন্য আমাদের মনে হচ্ছে যে কোনো অসাধু ব্যক্তি যখন তখন বনের ভেতর ঢুকতে পারে। তাই আমরা আরো বেশি তৎপর রয়েছি। যখন যেখানে খবর পাছি আমরা ছুটে যাচ্ছি।

সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, করোনা আক্রান্ত মানুষ যখন গৃহবন্দি, সুন্দরবনের প্রাণ প্রকৃতি তখন উন্মুক্ত উল্লাসিত এবং অবারিত। বাঘ হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী সুন্দরবনে নির্ভিঘ্নে বিচরণ করছে। ঠিক এমন সময় একটি অসাধু চক্র সুন্দরবনে হরিণ শিকারে মেতে উঠেছে। সুন্দরবনের কয়েকটি রেঞ্জে ইতিমধ্যে হরিণ শিকারের ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমাদের আবেদন এখনই চোরা শিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিন। তা না হলে সুন্দরবন তার সৌন্দর্য হারাবে। আমরা হারাবো অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার সুন্দরবনকে।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সুন্দরবন পর্যটকদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যার ফলে সুন্দরবনে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। হরিণ শিকারীরা মনে করেছিলো করোনা পরিস্থিতির কারণে বনবিভাগ নজরদারি ও টহল কমিয়েছে। এই চিন্তায় কিছু হরিণ শিকারী বনে প্রবেশ করেছিল। আমরা তাদেরকে যথাসময় আটক করেছি। কিছু হরিণ শিকারীরা জবাই করেছে। আমরা সব সময় টহল জোরদার রেখেছি। সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার্থে বনবিভাগের সদস্যরা সবসময় তৎপর রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ :
tools, webmaster icon কারিগরি সহযোগিতায় : মো: নজরুল ইসলাম দিপু, মোবাইল: 01737072303
কারিগরি সহযোগিতায়:লক্ষ্মীপুর ওয়েব সলুয়েশন